বিষয়টি কেও এড়িয়ে যাবেন না ।
শুধু শেয়ার
করে সবাইকে জানিয়ে দিন ।
আমি জানি না টেকটিউনস এ এই
ধরনের লেখা প্রকাশ করার কোন
নিয়ম আছে কিনা ? তাও লিখছি ,
যদি ও এটি আমার প্রথম লেখা , কোন
ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর
দৃষ্টিতে দেখবেন ।
তো আজকে যে বিষয়টি নিয়ে লিখছি তা হল
থ্যালাসেমিয়া । সারা বিশ্ব ১০০
মিলিয়নের
বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে
। বাংলাদেশে এর বাহক
রয়েছে এক কোটির বেশি,আর
প্রতি বছর এক লাখ শিশু এ রোগ
নিয়ে পৄথিবীতে আসে । আমাদের
দেশে এর হার ৩.৬ মিলিয়ন,প্রায় ৬
হাজার শিশু নতুন
ভাবে থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহন
করে । এটা সাধারণত জন্মের পরপরই
বা দুই থেকে চার বছর বয়সেই
বেশি দেখা যায়, তবে যারা এর
জিন বহন করে তাদের যে কোন
বয়সেই হতে পারে ।
সারা বিশ্বে অনেক ধরনের
থ্যালাসেমিয়া আছে ।
তবে বেশির ভাগ
বিজ্ঞানী প্রধানত নিম্নলিখিত
ভাগে ভাগ করেন –
১. থ্যালাসেমিয়া মেজর
যা বেশির ভাগ সময়ে জন্মের প্রথম
বছরেই হয় ।
২.
থ্যালাসেমিয়া ইন্টারমিডিয়া যা দুই
থেকে চার বছর বয়সেই
বেশি দেখা যায়
৩. থ্যালাসেমিয়া মাইনর
বা ট্রেইট যা যে কোন বয়সেই
হতে পারে ।
এটি সাধারণত বংশগত
রক্তশূন্যতাজনিত রোগ, যা পিতা-
মাতার কাছ থেকে বংশগতির ধারক
ও বাহক জিনের
মাধ্যামে সন্তানের মধ্যে ছড়ায় ।
এদের বেশির ভাগেরই মারাক্তক
রক্তশূন্যতার জন্য নিয়মিত প্রায়
প্রতিমাসে এক থেকে একাধিকবার
রক্ত দিতে হয় । কিন্ত যাদের কিছুই
হয় না । বোনম্যারো স্টাডি ও
হিমোগ্লোবিন
ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষার
মাধ্যামে নিশ্চিত হওয়া যায় এ
সম্পর্কে ।
থ্যালাসেমিয়ার লক্ষন সমূহ :
১. রক্তে হিমোগ্লোবিন
তৈরি হলে অপূর্ণাঙ্গ
হয়ে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় ।
২.সমস্ত শরীর ফ্যাকাসে দেখা যায়
।ত্বক হলদেটে হয়ে যায় এবং গাঢ়
রঙের প্রস্রাব হয় । অর্থাৎ জন্ডিসের
লক্ষণ দেখা দেয় ।
৩.যকৃৎ ও প্লিহা অস্বাভাবিক বড়
হয়ে পেট বড় দেখাই, শারীরিক
অবসন্নতা, ক্ষুধামন্দ, চোয়ালের হাড়
মোটা হয়ে মুখমন্ডল বিকৃতি ।
৪.লম্বায় স্বাভাবিকের
চেয়ে ছোট, স্বাভাবিকের
মতো চঞ্চলতা থাকে না,
কখনো বমি করে ।
৫.শরীরের স্বাভাবিক
বৃদ্ধি কমে যেতে থাকে ।
এবং মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল
হয়ে পড়েন রোগী ।
যথাযথ
চিকিৎসা না হলে মারাক্তক
রক্তশূন্যতা ও অতিরিক্ত আয়রন জমা
হওয়ায় বিষক্রিয়া ৬-৮ বছরের মধ্যেই
বেশির ভাগ রোগী মৃত্যুবরণ করে ।
থ্যালাসেমিয়া হওয়ার মূল কারণ:
রক্তের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান
হচ্ছে হিমোগ্লোবিন । আমরা শ্বাস
প্রশ্বাসের সাথে যে অক্সিজেন
গ্রহন করি তা পুরো দেহে বহন
করে নিয়ে যায় রক্তের
হিমোগ্লোবিন । হিমোগ্লোবিন
তৈরী হয় দুটি প্রোটিন দিয়ে যার
নাম আলফা প্রোটিন ও
বিটা প্রোটিন । যখন এই প্রোটিন
গুলোর উৎপাদন দেহে কমে যায় তখন
দেহে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদনও
কমে যায় ।
এবং থ্যালাসেমিয়া রোগটি দেখা দেয়
। আলফা ও বিটা প্রোটিন প্রধানত
তৈরী হয় মানুষের জীন হতে । যখন
বাবা মায়ের
জীনে থ্যালাসেমিয়ার বাহক
থাকে তখন বাবা-মায়ের কাছ
থেকে সন্তানেরা বংশানুক্রমে একই
জীন পায় । এবং তখনই মূলত
থ্যালাসেমিয়া হতে দেখা দেয় ।
সুতরাং থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত
রোগ । এবং এটি প্রতিরোধের
কোনো উপায় নেই ।
কারো কারো ক্ষেত্রে জীনের
ত্রুটি খুবই সামান্য
থাকে যে থ্যালাসেমিয়ার কোন
লক্ষণই দেখা যায় না ।
তারা থ্যালাসেমিয়ার রোগী নন
কিন্তু তাদেরকে থ্যালাসেমিয়ার
বাহক বলা হয় । এক্ষেত্রে কোন
চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না । কিন্তু,
ভবিষ্যতে বিয়ের ব্যাপারে অনেক
বেশি সাবধান থাকতে হয় ।
কেননা দুইজন
থ্যালাসেমিয়া বাহকের
বিয়ে হলে সন্তানকে এই রোগ
নিয়ে জন্মাতে দেখা যায় ।
থ্যালাসেমিয়া রোগের
প্রতিরোধ : বিয়ের আগে রক্ত
পরীক্ষা করে এর
বাহককে বিয়ে না করে সহজেই
প্রতিরোধ করা যায়
অথবা বাচ্চা নেওয়ার আগে অবশ্যই
স্বামী-স্ত্রী থ্যালাসেমিয়া
রোগের বাহক
কিনা তা পরীক্ষা ( বোনম্যারো স্টাডি ও
হিমোগ্লোবিন
ইলেকট্রোফোরেসিস ) করতে হবে ।
স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বাহক হলে সুস্থ
বাচ্চা পাওয়ার উপায় কি ?......
মায়ের গর্ভে বাচ্চা বয়স যখন ১২
হতে ১৫ সপ্তাহ (আকার দেড়/দুই
ইঞ্চি) তখন প্রাথমিক গর্ভফুল
হতে কোষকলা সৎগ্রহ (Chorionic Villus
Sampling ) বা গর্ভের বাচ্চার
চারপাশের পানি সৎগ্রহের
(Amniocentesis) মাধ্যমে ডিএনএ
পরীক্ষা করে গর্ভের
বাচ্চা থ্যালাসেমিয়া রোগ
আছে কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত
হওয়া যায় ।
এভাবে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত
সন্তানের জন্ম প্রতিরোধ করা অবশ্যই
সম্ভব ।
বাংলাদেশে এর পরীক্ষা:
যদি কারো মধ্যে এই ধরণের লক্ষণ
দেখা দেয় এবং এর সাথে অন্য
কোনো রোগের সংযোগ
না থাকে তবে দ্রুত ডাক্তারের
শরণাপন্ন হোন । প্রথমে রক্ত
পরীক্ষা করান ।
এতে যদি অ্যানিমিয়া অর্থাৎ
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ
কম থাকে তাহলে ডাক্তারের
পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত
হয়ে নিন এটি আসলেই
থ্যালাসেমিয়া কিনা ।
থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণের জন্য
যে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে তার
নাম হচ্ছে হিমোগ্লোবিন
ইলেকট্রোফোরেসিস । ঢাকার
বারডেম, পিজি, সি.এম.এইচ,
আইসিডিডিআরবি, কেয়ার
হাসপাতাল
এবং পদ্মা ডায়াগনস্টিক
সেন্টারে এই পরীক্ষাটি ৮০০-১০০০
টাকার মধ্যে করা হয় ।
থ্যালাসেমিয়া রোগীদের
খাওয়া যাবে না: অতিরিক্ত আয়রন
সমৃদ্ধ খাবার যেমন : কলা, কচু,
লালশাক, গরু, মহিশ, খাসির মাংস ও
কলিজা বর্জন করতে হবে