পৃথিবীর সব থেকে বড় সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবার বাংলাদেশে তাদের আঞ্চলিক অফিস করতে যাচ্ছে। এ
দেশে মূলত সেলস অফিস খোলার মাধ্যমে ফেসবুক বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সেবা বিক্রি
করবে। এদিকে গত শনিবার ফেসবুকের সদর দফতর পরিদর্শন শেষে তথ্য ও যোগাযোগ
প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ফেসবুক পরিচালকদের বাংলাদেশ সফর
করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পরিদর্শন শেষে ফেসবুকের হেড অব পলিসি প্রোগাম
লিসা ফস্টার ও ফেসবুকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাদের সাথে বৈঠক করেন বাংলাদেশের
প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বাংলা ভাষায় ফেসবুক, বাংলাদেশে আঞ্চলিক অফিস স্থাপন ও
স্থানীয়ভাবে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে লোকাল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে দেশের
তরুণ প্রজন্মের জন্য জনপ্রিয় অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ফেসবুক-এ
শিক্ষা সহায়ক টুলস প্রচলনের আহ্বান জানান বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি
(বিসিএস) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন
সার্ভিসেস (বেসিস)।
তথ্য
ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে ১৭ মে,
শনিবার আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত ফেসবুকের সদর দফতর পরিদর্শন শেষে
আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন বিসিএস সভাপতি ও কম্পিউটার সোর্স
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম মাহফুজুল আরিফ এবং বেসিস সভাপতি ও এখনই ডটকম
প্রধান নির্বাহী শামীম আহসান। সফররত বিসিএস সভাপতি মাহফুজুল আরিফ
জানিয়েছেন, এ সময় বিসিএস পরিচালক আলী আশফাক, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লি. এর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুর খান, বেসিস মহাসচিব রাসেল টি. আহমেদ উপস্থিত
ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারী সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ,
আউটসোর্সিংকে ফেসবুক মিডিয়ার সাথে ট্যাগ করা, এবং ফেসবুকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র
মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে বিকিকিনির পদ্ধতি সংযুক্ত করার
প্রস্তাব করা হয়। সভায় ফেসবুক বাংলাদেশে তার কার্যক্রম শুরু করলে বাংলাদেশ
সরকার অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করে দেয়া হবে বলে জানান আইসিটি
প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক। ফেসবুকে বাংলাদেশের তরুণদের আগ্রহ এবং
বহুমুখী ব্যবহারে বাংলাদেশে কিভাবে ফেসবুক জনপ্রিয় হচ্ছে তা তুলে ধরেন
তিনি। বাংলাদেশে ফেসবুকে বর্তমানে ৩.৫ কোটি ব্যবহারকারী কাছে জানিয়ে বৈঠকে
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফেসবুক
ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটিতে পৌঁছাবে। বৈঠকে ফেসবুক পরিচালকদের বাংলাদেশ
সফর করার আমন্ত্রণ জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। মন্ত্রীর
আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করার পাশপাশি বিসিএস ও বেসিস এর
পক্ষ থেকে যৌথভাবে উপস্থাপিত প্রস্তাব পূরণে আশ্বাস দেন ফেসবুক এর হেড অব
পলিসি প্রোগাম লিসা ফস্টার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে
ইউএস-বাংলাদেশ টেক ইনভেস্টমেন্ট সামিটে এই তিনজনসহ বিশিষ্ট আইটি ব্যবসায়ি
ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি
এএইচএম মাহফুজুল আরিফ, বেসিসের ১৫টি কোম্পানিসহ বাংলাদেশের অর্ধশত শীর্ষ
আইসিটি ব্যবসায়ী ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ
অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) এবং দ্য
ইন্দাস এন্টারপ্রাইজ (টাই) প্রতিবছর এ সামিটের আয়োজন করে থাকে। এদিকে একটি
অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর
জন্য ইতোমধ্যে কান্ট্রি ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে
বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো মাধ্যমটি। ফেসবুকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে এমন
একটি সূত্র কার্যালয় খোলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক
প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে গুগলের পরামর্শক কাজী মনিরুল কবিরের সঙ্গেও যোগাযোগ
করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নিজে থেকে আগ্রহী হয়েও অনেকে কান্ট্রি
ম্যানেজারের দায়িত্ব পেতে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। ফেসবুকের পক্ষ
থেকে প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মনিরুল কবির জানান, বিশ্বখ্যাত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কার্যালয়ের দায়িত্ব নিতে
সম্প্রতি তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি এখনও যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত
নেননি বলে উল্লেখ করেন। গত বছর গুগল বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।
পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ দেয় গ্রামীণফোনের সাবেক প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা
মনিরুল কবীরকে। নিজস্ব কার্যালয় থাকলে বিজ্ঞাপন থেকে আয় আরও বৃদ্ধি পাবে
বলে মনে করছে মার্কিন এ প্রতিষ্ঠানটি। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন
ব্যবসায়িক সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে সেলস অফিস নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ফেসবুক।
ইতোমধ্যে হংকংয়ে একটি সেলস অফিস চালু করা হয়েছে, যেখানে ৩০-৪০ জন কর্মী
কর্মরত আছেন। এ ছাড়া গত সপ্তাহে চীনে কার্যালয় খোলার কার্যক্রম শুরুর কথা
জানিয়েছে স্বল্পতম সময়ে দুনিয়া জুড়ে সামাজিক যোগাযোগে চমক জাগানো
প্রতিষ্ঠানটি। তবে ফেসবুক ২০১০ সালের ১৫ মার্চ থেকে পৃথিবীর দেশে দেশে
আঞ্চলিক অফিস করার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওইদিন ফেসবুকের
অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ সম্পর্কে একটি ঘোষণাও দেয়া হয়। ঘোষণাটি দেখা যাবে এই ঠিকানায়।