জীবন চলার পথে কত মানুষের
সাথেই না পরিচিত হতে হয়। আবার
কত মানুষের সাথেই
ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠে।
স্কুল জীবন থেকে শুরু
করে বিশ্ববিদ্যালয় পার
হতে গিয়েও আমাদের
সাথে অনেকের বন্ধুত্ব
গড়ে উঠে। কিন্তু সময়
পরিবর্তনের
সাথে সাথে দেখা যায়, এক সময়
পাশে থাকা ভালো বন্ধুও
হারিয়ে যায়।
পথ
চলতে গিয়ে আপনি হয়তো অনেকের
সাথে মিশেছেন। কিন্তু
কে আপনার প্রকৃত বন্ধু
কিংবা কে আপনাকে সারা জীবন
মনে রাখবে তা হয়তো আপনি জানেন
না। কিছু উপায় অবলম্বন
করলে আপনি সহজেই আপনার প্রকৃত
বন্ধুকে চিনে নিতে পারেন।
বন্ধু চেনার উপায়:
১. বিশ্বাস: সম্পর্ক
টিকে থাকে বিশ্বাসের উপর।
যেখানে বিশ্বাস নেই
সেখানে সম্পর্ক টিকে থাকার
কোনো প্রশ্নই উঠে না।
আপনি বন্ধু ভেবে যাদের
সাথে মিশছেন, খেয়াল রাখবেন
তারা আসলেই বিশ্বাসযোগ্য
কি না, নাকি আপনার বলা গোপন
কোনো কথা ফাঁস করে দিচ্ছে ।
এক্ষেত্রে যদি সে বিশ্বাসযোগ্য
হয়, তাহলে নির্দিধায় আপনি তার
সাথে বন্ধুত্ব রাখতে পারেন।
২. উৎসাহিত করা: প্রকৃত বন্ধু
সবসময়
আপনাকে যে কোনো কাজে উৎসাহিত
করবে। তখন সহজেই আপনি আসল
বন্ধুকে চিনে নিতে পারবেন।
৩. বিপদে পড়লে: অনেক সময়
আমরা সামাজিক
অথবা পারিবারিক কারণে নানান
বিপদের সম্মুখীন হই। নিজের
মানুষও অনেক সময় তখন
কাছে থাকে না। কিন্তু প্রকৃত
বন্ধু, যত বিপদেই পড়েন না কেন
কোনদিন আপনার কাছ
থেকে দূরে থাকবে না।
বরং বিপদের বন্ধু হয়ে হাত
বাড়িয়ে দিবে।
৪. সময় দেওয়া: প্রকৃত বন্ধু সবসময়
আপনাকে পর্যাপ্ত সময় দিবে।
এতে করে দুজন দুজনের
পেছনে সময় ব্যয় করার
মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকবে।
বন্ধুত্বের সম্পর্ক
টিকিয়ে রাখার জন্য এ
ভারসাম্য থাকা অনেক
বেশি জরুরী। দুজনের সময় ব্যয়ের
পিছনে যদি ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়
তাহলে বন্ধুত্ব নিয়ে আরও
একবার ভাবুন। কারণ এমন বন্ধু কখনই
ভালো বন্ধু হতে পারে না।
৫. কথা শোনা: বাস্তব
জীবনে আমরা একে অন্যের
কথা শুনতে অভ্যস্ত। এর
ব্যতিক্রম নয় বন্ধুত্বের
সম্পর্কেও। একজন
আরেকজনকে বোঝার জন্য
কথা বলা ও শোনার প্রয়োজন
আছে। সেক্ষেত্রে একজন
সত্যিকার বন্ধু সবসময়ই আপনার
কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। আর
যদি না শোনে তাহলে সে বন্ধুর
কোনো দরকার নেই।
৬. মানিয়ে চলা: ব্যক্তিত্বের
পার্থক্য থাকলেও স্বতস্ফূর্ত
বন্ধুত্বে যোগাযোগে কোনো সমস্যা থাকে না।
কারণ
মানিয়ে নিতে পারলে যে কোনো মানুষের
সাথেই বন্ধুত্ব গড়ে উঠে।
দুজনের
বন্ধুত্বে যদি কোনো ধরনের
যোগাযোগে সমস্যা থাকে তাহলে বুঝতে হবে তার
সাথে আপনার সম্পর্ক
স্বাভাবিক নয়। মানিয়ে চলার
ক্ষমতা না থাকলে সে কখনই
আপনার প্রকৃত বন্ধু
হতে পারে না।
৭. উদ্যম বাড়া: মাথায়
রাখতে হবে, বন্ধুর সাথে সময়
কাটানোর পর আপনার উদ্যম
বাড়ে কি না। যদি মনে হয়, বন্ধুর
সাথে আপনি অনেক ভালো সময়
পার করেছেন তাহলে তো কথাই
নেই। অন্যথায়, বন্ধুত্বের
সম্পর্ক নিয়ে আবারও ভাবুন।
বন্ধু অনেক আছে, কিন্তু
ভালো হয় কয়জনে। তাই
আপনি যাদের সাথে মিশছেন
তাদেরকে ভালোভাবে বোঝার
চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন,
আপনি খুব সহজেই আপনার
সত্যিকার বন্ধুর সন্ধান
পেয়ে যাবেন।
আপনার পাশের বন্ধুটি কি সত্যিই বন্ধু, না কি সুসময়ের বন্ধু ? জেনে নিন!!!