রাজধানীতে বসুন্ধরা সিটির
দোকানিরা নাখোশ অনলাইন
সংবাদ মাধ্যমগুলোর ওপর। তাদের
অভিযোগ, ‘এবার ঈদে পাখি ড্রেস
নিয়ে অনলাইনগুলোর প্রকাশিত
প্রতিবেদনে তাদের মার্জিন
কেনাবেচা মার খেয়েছে।’
কারণ হিসেবে বসুন্ধরা সিটির
লেভেল থ্রির ‘চাঁদের মেলা’র
মালিক মো: আসলাম বললেন,
‘প্রত্যেক কাস্টমারের
হাতে হাতে ফোন-ফেসবুক।
সেখানে কাস্টমাররা মুহূর্তেই
জেনে গেছেন পাখি ড্রেস
নিয়ে তালাক এমনকি আত্মহত্যার
কথা।’
‘এসব ভারতীয় পোশাক
নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা-
সমালোচনাতেও প্রভাব
পড়েছে বেচাকেনায়।’
তবে শুরুতে দোকানে ঢুকে জেনে নেওয়া গেল
আলোচিত পাখি ড্রেসের কথা।
ড্রেসটি কিছুটা থ্রিপিসের
মতো হলেও গলার
দিকটা বিশেষভাবে কাটা।
এছাড়াও হাফ স্লিভের সুতির এই
ড্রেসটিতে রয়েছে কিছু বিশেষ
কারুকার্য।
কোথা থেকে আসে এই
পাখি ড্রেস এমন প্রশ্নের জবাব
খুঁজতে সরেজমিনে অরেঞ্জ,
স্নেহা, বারিষ, মিস্টার অ্যান্ড
মিসেস, হিদা ফ্যাশনস
এবং ইন্ডিয়ান জোন
ঘুরে জানা গেলো ‘ড্রেসটি ইমপোর্টেট।
সরাসরি ভারত থেকে আনা হয়।’
দামটা কমবেশি ৫ হাজার থেকে শুরু
করে ১২ হাজার পর্যন্ত। কিন্তু বিপুল
চাহিদার কারণ
সম্পর্কে দোকানদাররা বলছেন,
‘শুধুমাত্র হিন্দি সিরিয়াল,
এছাড়া আর কোনো বিশেষ কারণ
নেই।’
প্রতি সপ্তাহের সোম
থেকে শনিবার রাত সাড়ে নটায়
‘স্টার জলসা’ নামের
একটি ভারতীয়
বেসরকারি চ্যানেলে ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’
নামের একটি সিরিয়াল প্রচারিত
হয়। কলকাতাসহ বাংলাদেশেও
সিরিয়ালটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত
জনপ্রিয়।
সিরিয়ালটির প্রধান চরিত্রের
নাম পাখি।
পাখি ড্রেস কিনে ফিরছিলেন
সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের
ছাত্রী তমা। তার
সাথে কথা বলে জানা গেল, তমার
বান্ধবীরা এবার ঈদের এই ড্রেস
কিনেছে। তাই শুক্রবার মার
সাথে পাখি ড্রেস
কিনতে এসেছিল তমা।
ইন্ডিয়ান জোনের দোকানদার
ফেরদৌস জানাচ্ছিলেন
কিভাবে ড্রেসটি সারাদেশে একসাথে জনপ্রিয়
হয়ে উঠল।
তার ভাষ্য, ‘এখন টিভি, ফেসবুক আর
মোবাইলের যুগ। মানুষ ঈদের
কেনাকাটা করতে গিয়ে এসব
মাধ্যম দ্বারা বেশ প্রভাবিত
হচ্ছেন।’
‘তবে আমরা কোনো নামে ড্রেসটি ইমপোর্ট
করছি না। বাজারে আসার পর এই
ধরনের ড্রেসগুলো পাখি নামেই
কিনছেন কাস্টমাররা।’
কারা কিনছেন পাখি ড্রেস, এমন
প্রশ্নের জবাবে উত্তর বেরুলো,
‘বিশেষ করে তরুণীরা।
তবে পয়সাওয়ালা মানুষই
ড্রেসগুলো বেশি কিনেছেন আসন্ন
ঈদে।’
পাখি ছাড়াও এবারের ঈদ
বাজারে তরুণীদের ক্রেজ
ফ্লোরটাচ, জিনাম, পাংকুড়ি,
ইশকিয়া ঘের, বীরজারা,
নেহা ধুপিয়া, দীপিকা,
ক্যাটরিনা, কিকসহ ইত্যাদি।
তবে বসুন্ধরা সিটির একাধিক
বিক্রয় কর্মী জানান, যখন
যে নামে ক্রেজ চলে সেটাই
বিক্রি করা হয়। এসব ড্রেস ঈদের পর
হয়তো প্রয়োজনে নাম
বদলে বিক্রি করা হবে।
[সংগ্রহীত]
নিউজনেক্সটবিডি ডটকম